শরীয়তপুরে চাঞ্চল্যকর হাবিব ও মনির হত্যা মামলার রায় ৯ মার্চ, ১৩ আসামী পলাতক

 

শরীয়তপুর প্রতিনিধি।।
শরীয়তপুরে আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইনজিবি সমিতির সভাপতি পিপি এ্যাড. হাবিবুর রহমান ও তার ভাই যুবলীগ নেতা মনির হোসেন মুন্সী হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হবে ৯ মার্চ। তবে এ মামলার মূল আসামীরা রয়েছে পলাতক, আতংকে রয়েছেন এ্যাড. হাবিবুর রহমান ও মনির হোসেন মুন্সীর পরিবার। গত রবিবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য এই দিন ধার্য করেন শরীয়তপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রাজজ শওকত হোসেন। এ মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবীদের ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন। শরীয়তপুরে চাঞ্চল্যকর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও শরীয়তপুর জেলা জজ কোর্টের পিপি এ্যাড. হাবিবুর রহমান ও তার সহোদর মনির হোসেন হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক শেষে গত ২৫ ফেব্রুয়ারী ২৬ জন আসামিকে জেলহাজতে প্রেরণ করেছেন বিচারক। এ মামলায় মোট ৫৪ জন আসামির মধ্যে প্রায়ত এমপি কেএম হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গসহ ২জন মারা যাওয়ায় ৫২ জন আসামি বিদ্যমান। মামলার মূল আসামী বাবুল তালুকদার, শহিদ তালুকদার, হেমায়েত, জুয়েল, শাহিন কোতোয়াল ও রুবেল খান, রশিদসহ ১৩ জন পলাতক থাকায় আতংকে রয়েছেন নিহত এ্যাড. হাবিবুর রহমান ও মনির হোসেন মুন্সীর পরিবার।
২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকার প্রার্থীকে বিজয় করার লক্ষ্যে ৫ অক্টোবর শরীয়তপুর জেলা শহরে এ্যাড.হাবিবুর রহমানের বাসভবনে আলোচনা সভা করছিলেন জেলা আওয়ামী লীগ। এসময় সতন্ত্র প্রার্থী কেএম হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গর সন্ত্রী বাহিনী এ মামলার আসামীরা বাসভবনে ঠুকে গুলি করে হত্যা করেন জেলা জজ আদালতের সাবেক রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) হাবীবুর রহমান ও তাঁর ভাই মনির হোসেন মুন্সীকে। দীর্ঘ ১৯ বছর আটকে থাকার পরে আলোচিত ওই হত্যা মামলার রায় ৯মার্চ হওয়ার খবর শুনে সর্বচ্চ সাজা দাবি করেন সাধারন মানুষ ও তাদের পরিবাব।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড.জহিরুল ইসলাম বলেন, ২০০১সালের নির্বাচনে আমাদের শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শরীয়তপুরের জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং শরীয়তপুরের পিপি এ্যাড. হাবিবুর রহমান এবং তার ভাই মনির মুন্সিকে হত্যা করা হয়। নির্বাচনের আরঙ্গ স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিল। তার কিছু সন্ত্রাসী বাহিনী আজকের মামলার আসামির তারা নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে এই হত্যা কান্ড চালায়।শরীয়তপুর বাসী জানে এই আসামিদের সাথে হাবিবুর রহমান সাহেবের সাথে ব্যক্তিগত কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে তাকে হত্যা করা হয়, আপনারা জানেন ২০০১ সালে সংসদ নির্বাচনে কিছু সেন্টারের তখনও ভোট হয়নি ৮তারিখে ভোট হওয়ার কথা ছিল সে ভোট কিভাবে আমরা ফেস করতে পারি এই মর্মে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে সে বৈঠক করছিল। এই অবস্থায় তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পরবর্তী সময়ে আইনজীবীসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দর নিরাপত্তা ছিলনা। হাবিব ভাইয়ের ছেলে এ্যাড.পারভেজ রহমান ( বর্তমান শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র) তখন তার বয়স অনেক কম ছিল তারাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ মামলা আজ ২০ বছর পার হয়ে গেছে। আমরা রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছি আসমি পক্ষে উকিলও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছে। আগামী ৯ মার্চ রায়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আমার সবার প্রথম সেলুট দিতে হয় এ্যাড. পারভেজ রহমান জনকে,তার অনেক কম বয়স ছিলো তাকে অনেক লোভ দেখানো হয়েছে তিনি কোনো ধরনের লোভে মামলার সাথে আপোষ হয়নি। আমরা আশা করি আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা পাওয়ার মতো সাক্ষ্য দিয়েছি। আমরা ন্যায় বিচার পাবো বলে মনে করি।

নিহত এ্যাড.হাবিবুর রহমানে সন্তান, শরীয়াতপুর পৌরসভার মেয়র এ্যাড. পারভেজ রহমান জন বলেন, ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কা প্রার্থী হয়েছিলেন মোবারক আলী সিকদার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিল হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গ। আমার বাবা ছিলেন শরীয়তপুর জজকোর্টের পিপি এবং জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আমার চাচা মনির মুন্সি সহ সবাই আওয়ামী লীগের নৌকার পক্ষে কাজ করেছেন। ১ অক্টোবর নির্বাচনে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার কারণে জাজিরার কয়েকটি কেন্দ্রে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। ৮ অক্টোবর সেই সমস্ত কেন্দ্রে নির্বাচনী হবে এবং কিভাবে নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করা যায় তার জন্য আমাদের বাড়িতে একটি মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিলো। সেই মিটিং-এ তৎকালীন স্বতন্ত্র প্রার্থী হেমায়েতুল্লাহ আওঙ্গের সন্ত্রাসী বাহিনী ২০০১ সালের ৫ অক্টোবর আমাদের বাড়িতে আক্রমণ করে লুটপাট করে নিয়ে যায় বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং আমাদের বেডরুমে ঢুকে আমার বাবা অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান এবং চাচা মনির মুন্সীকে সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। ২০ বছর যাবত আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে আসছি এই মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে আমিসহ আমাদের এই দুই পরিবার নানান অত্যাচার নির্যাতন ও ভয়-ভীতির সম্মুখীন হয়েছি। আমার মা জিনাত রহমান ২০১৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন। যতদিন জীবিত রয়েছেন এ মামলার বিচার পাওয়ার জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন তিনি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দেখে যেতে পারেননি। ২০০১ সালের পরে নানা চড়াই-উৎরাই পার করে আমরা এই মামলাটি বিচারের আওতায় আনতে পেরেছি। আগামী ৯ মার্চ এই মামলার রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছে। এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ যেভাবে সাক্ষ্যপ্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে আমরা দুই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার আশা করি এই মামলায় সর্বোচ্চ বিচার আমরা পাব। তবে এই খুনের সাথে জড়িত কিছু আসামি পলাতক রয়েছে দেশের বাহিরে। আমি রাষ্ট্র পক্ষের কাছে দাবি করব তাদেরকে দেশের বাইরে থেকে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনা হবে হোক এবং তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি হবে এটাই আমি দাবী করছি।