কোরআন মানব জীবনের একমাত্র চিকিৎসা

দয়াময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

কিছু কথা

আল্লহর অশেষ রহমতে বর্তমান বিশ্বের প্রায় সবকটি দেশের সবকটি ভাষায় কোরআন অনুদিত হয়েছে । আমরাও পিছিয়ে নেই,  জ্ঞানী-গুনী আলেম, বারেন্য ব্যক্তিবর্গ, ভাষান্তরকারীগণ অনুবাদ করেছেন কোরআনের। কোরআনের বঙ্গানুবাদ হচ্ছে মুল কোরআনকে অবিকৃত রেখেই কেননা আমি বা আপনি চাইলেই একে বিকৃত করতে পারবো না। আরবী ভাষায় রচিত কোরআনের বাক্য বিভিন্ন ভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব কিন্তু অর্থগত দিক দিয়ে পাল্টে ফেলা সম্ভব নয়। এখানেই কোরআন সর্বশ্রেষ্ঠ এবং এর রক্ষাকর্তা একমাত্র আল্লাহ্, প্রমান স্বরুপ বলা যায় বিভিন্ন অনুবাদকের অনুবাদ করা কোরআন পাঠ করে দেখা গেছে যে, এখানে ভাল- মন্দ, দিক-বিদিক, মুমিন- কাফের, সত্য- মিথ্যা, জীবন-মরণ, আকাশ-স্থল-জল, হালাল- হারাম, ইহকাল- পরকাল, বাস্তবতা-পরাবাস্তবতা, ভূত-ভবিষ্যৎ, কাল- আকাল, ধর্ম- অধর্ম, সততা- অসততা, শুদ্ধ- ভুল, সাধু- শয়তান, ইহকাল- পরকাল, দৃশ্য- রহস্য, আলো- আধার, পারিবার- রাষ্ট্র- সমাজ, ব্যক্তি- গোষ্ঠী, বিশ্বাসী- অবিশ্বাসী, ন্যয়- অন্যায়, আদি- অন্ত, অবিচার- বিচার, শাস্তি- পুরস্কার, শান্তি- অশান্তি, জ্ঞান- অজ্ঞান, পাপ-পূন্য, বিশ্বাসী- আবিশ্বাসী, সৃষ্টিকর্তা- সৃষ্টি, ব্যবস্থাপনা- অব্যস্থাপনা, কলহ- মিমাংসা, মালিকানা- অমালিকানা, বন্টন- প্রাপ্তি- অপ্রাপ্তি, মানুষ- সম্পর্ক- অসম্পর্ক , নারী-পুরুষ, কাজ- অকাজ, পথপ্রর্দশক- পথভ্রান্ত, ইতিহাস- বর্তমান, বিজ্ঞান- কল্পনা, গদ্য-পদ্য, সর্বময়তা- সর্বহারা, উঁচ্চতা- দীনতা, পরিচালক- পরিচালনা, রাজা- প্রজা, সম্প্রসারণ- সংকোচন, ভাগ্য- অর্জন (রিজিক), মেধা- মনন, চরিত্র- দুঃশ্চরিত্র, প্রকৃতি- প্রানী- উদ্ভিদ, খদ্য- অখাদ্য, ইহজীবন- পরজীবন, সৃষ্টি- ধ্বংশ(কিয়ামত)- পুনরায় সৃষ্টি (পূর্ণত্থান) তথা মনুষের কল্যানে এক আল্লাহ যেখানে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং বিধান দিয়েছেন তার উপর বিশ্বাস আনা, নামাজ কায়েম করে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং পরকালে একমাত্র আধিপত্য আল্লাহ্র এবং প্রত্যেকটি মানুষের বিচারকর্তা আল্লাহ্ ও কর্ম অনুযায়ী প্রাপ্তি (বেহেশত্ ও দোজখ) এইসব বিষয়সমুহের সাবলিল বর্ণনা এমনভাবে কোরআনে বর্ণিত হয়েছে কোন মানুষের পক্ষে (সে যে ধর্মের অনুসারীই হোক না কেন!!) কোরআনের কোন আয়াত বিকৃত করা সম্ভবপর নয়। বাক্যগত অর্থ সম্পূর্ণ উল্টিয়ে ফেললেই শুধুমাত্র কোরআন কে বিক্রিত করা সম্ভব, উদহারণ হিসাবে উল্লেখ করা যায়- “আমি(আল্লাহ) এই কোরআনকে অবতীর্ণ করেছি মানুষের জন্য কল্যান স্বরুপ।” এই আয়াতের স্থলে যাদি লিখা হয়  “আমি(আল্লাহ) এই কোরআনকে অবতীর্ণ করেছি মানুষের জন্য অ-কল্যান স্বরুপ।”- তবেই কোরআনকে বিকৃত করা সম্ভব। কিন্তু তা কি সম্ভব!! সম্ভব নয়। কেননা কোরআনের হেফাজতকারী এরই রচনাকারী একমাত্র আল্লাহ্। আর, কোরআনই হচ্ছে একমাত্র গ্রন্থ যেখানে মানুষের জন্য ইহকাল ও পরকালের পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা বর্ণিত হয়েছে, বর্ণিত হয়েছে অঙ্কশাস্ত্র, জ্যোর্তিবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞন, সমাজবিজ্ঞান, দর্শন, বিজ্ঞান, শৈলবিজ্ঞান, মনঃবিজ্ঞান, প্রানী বিজ্ঞান, ইতিহাস, সৃষ্টিতত্ত্ব। অথচ অজ্ঞানতার কারনে ভাষাজ্ঞানহীনতার কারনে আমরা আল্লাহ্র এই বিশাল জ্ঞান ভান্ডার হতে বঞ্চিত। আল্লাহ তার পবিত্র কোরআনে পথপ্রদর্শক শেষ নবী মোহাম্মদ স. কে (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক।) উদ্দেশ্য করে বলছেন, “আমি এই কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি তোমার ভাষায় অবতীর্ণ করে যাতে তুমি বুঝতে পারো।” তিনি আল্লাহ যিনি তৎপর এই কোরআনকে আমাদের ভাষায়ও সহজ করে দিয়েছেন বিভিন্ন আলেম ও সম্মানিত অনুবাদকদের মাধ্যমে যাতে আমরা বুঝি এবং সহজে সহজ পথ সরল পথের মাধ্যমে পরকালের সম্পদ অর্জনের জন্য ইহকালে আল্লাহ্ ও রসুলের নির্দেশ মোতাবেক আমাদের জীবনকে আবাদ করতে পারি। অথচ কি আশ্চর্যের বিষয় আমাদের হাতের কাছে বাংলায় অনুদিত কোরআন থাকলেও আমরা বেশীরভাগ মুসলমানই তা পাঠ করি না। আমরা জানিনা কোরআনের ১১৪ টি সুরার নামের অর্থ। আর, একারনেই, বাংলাদেশের বাংলা সাহিত্যের এক খ্যতনামা লিখক তার একটি বিখ্যাত গন্থে লিখেছিলেন কোরআনে নারীকে কোন মুল্যায়ন করা হয় নাই। অথচ কোরআনে চতুর্থ সুরার নাম আন্ নিছা অর্থাৎ নারীজাতি, কোরআনের উনিশতম সুরাটি হচ্ছে সুরা মরিয়ম যাকে আল্লাহ্ নবীর মর্যাদা দিয়েছেন এবং বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মা হিসাবে অবহিত করেছেন, ষাটতম সুরা আল মুমতাহানা যার শব্দগত অর্থ হচ্ছে যাকে (মহিলাকে) পরীক্ষা করা হবে, সাতান্নতম সুরা আল মুজাদ্দিলা যার শাব্দিক অর্থ অনুনয়কারী মহিলা বা নালিশকারী নারী বা বাকবিতন্ডাকারী নারী, একশত তেরতম সুরা আল ফালাক্বের চতুর্থ ও পঞ্চম আয়াতে আল্লাহ্র নিকট আশ্রয় প্রার্থনার ক্ষেত্রে বলছেন- “গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে জাদুকারিণীদের অনিষ্ট থেকে এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।” আমাদের জানার অনিহাই আমাদেরকে অন্ধ করে রেখেছে আল্লার এই মহাজ্ঞান হতে। আমাদের জীবনে কোরআন হচ্ছে ঔষধ স্বরুপ, প্রত্যেকটি মানুষই চায় সৎ-সুন্দর- সুখে বসবাস করতে আর এই তিনটি শব্দের চিকিৎসা হচ্ছে কোরআন এবং চিকিৎসক হচ্ছেন আল্লাহ্ । আমার যৎসামন্য জ্ঞান দিয়ে আমি কোরআন থেকে যেটুকু অর্জণ করেছি তাতে আমি সন্তষ্ট, আপনারা হয়তো আমার চেয়েও বেশী পাবেন যদি একাগ্রতা নিয়ে আপনার ভাষায় অনুবাদকৃত কোরআন পাঠ করেণ; ২৪ ঘন্টার রাতে ‍কিংবা দিনে একবার একঘন্টা কিংবা তারও কম। এটি আপনার জীবনের দৃষ্টিকে খুলে দিয়ে আপনাকে করে তুলবে প্রকৃত মানুষ এবং মুসলমান।

আমি এখানে আপনাদের সুবিদার্থে কোরআনের ১১৪ টি সুরার নামের অর্থ এবং যে কারনে এটি পড়ে আমি তৃপ্ত এবং ধন্য তার অল্প বর্ণনা প্রত্যেকটি সুরার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমিক ভাবে তুল ধরারা চেষ্টা করবো। চোখ রাখুন www.nariabarta.com নড়িয়ার সর্বপ্রথম এবং একমাত্র নিউজ পোর্টাল-এ।

লিখতে যেয়ে ভুল করতেই পারি কেনানা ভুল মানিুষের সহজাত, আশা করছি আমার ভুলত্রুটি শুধরে দিবেন, কেননা এইটি কোরআন যতবারই পড়বেন ততবারই মনে হবে নতুন করে পড়ছি, নতুন কিছু শিখছি, এইখানে রয়েছে আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর, সকল অসুখের সমাধান, পরিপূর্ণ সুখ, পরিপূর্ন মানুষ হবার একমাত্র চিকিৎসা এবং চিকিৎসক স্বয়ং এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহ।

কেউ যদি উপকৃত হন বা কোন প্রশ্ন থাকে বা কোন উপদেশ থাকে তবে আমাকে পাবেন নিম্নে উল্লেখিত নাম্বারে-

মোবাইলঃ ০১৭২-০০-৮০৪০০, ০১৯১৩০৯১৭০৯, ফোন- ০৬০১৫৯১৮৮ অফিস সময় (সকাল ৯ টা হতে সন্ধা ৭ টা।)

আরবী ১। সুরা আল- ফাতিহা
বাংলা নাম- প্রারম্ভ বা সূচনা বা উপক্রমনিকা
ইংরেজী নাম- The Opening or The Introducing or The Starting
আয়াত সংখ্যা- ০৭
অবতীর্ন- মক্কায়

প্রারম্ভ সুরার মাধ্যমে মহান আল্লাহ তা’য়ালা তাঁর পরিচয় বান্দার নিকট স্পষ্ট করেছেন। এবং বান্দার সাথে তাঁর সম্পর্ক কিরুপ হবে ও বান্দা কিভাবে তা লাভ করবেন তার প্রার্থনার পদ্ধতি উল্লেখ করেছেন।

এই সুরার মর্যাদা হচ্ছে আল্লাহ মেষচালক পবিত্র নবী মোহাম্মদ স. (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক।) কে কোরআন মারফত বলছেন, “ আমি তোমাকে বার বার পঠিতব্য সাতটি আয়াত দান করেছি” যা সুরা ফাতিহার সাতটি আয়াত। এবং এই আয়তগুলো আমলে শেফা অর্থাৎ রোগমুক্তির আয়াত নামেও পরিচিত।

পর্যায়ক্রমিক ভাবে চলবে