কোরআন মানব জীবনের একমাত্র চিকিৎসা

দয়াময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

আরবী ২। সুরা আল- বাক্বারা
বাংলা নাম- গাভিটি বা গাভী বা গরু জাতি
ইংরেজী নাম- The Cow
আয়াত সংখ্যা- ২৮৬ রুকু- ৪০
অবতীর্ন- মদীনায়

গাভীটি বা গাভী-  সুরাটি কোরআনের সর্বোচ্চ সংখ্যক আয়াত সম্বলিত। সুরাতে গাভী নামটি লাক্ষ্যনিক (Symbolic) অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে যাকে আমরা একটি Container বা গর্ভ বা ধারক  হিসাবে উল্লেখ করতে পারি। একটি গাভী নিয়ে গভীরভাবে খানিকটা সময় চিন্তা করে দেখুন- ভাবুন, একটি গাভী যা ধারণ করে তার সবকিছুই একটি পরিবার, একটি সমাজ, একটি রাষ্ট্র এবং একজন ব্যক্তির জন্য অর্থর্নৈতিক এবং দৈহিক ও মানষিকভাবে কল্যানকর। আপনি কি বলতে পারবেন গাভীর একটি উপাদান দুধ সংগ্রহ করার পর হতে একে কতভাগে বিভাজন করা যায়, কত প্রকারের খাদ্য প্রস্তুত করf যায় এই দুধ থেকে! এমনকি গরু বা গাভীর গোবর/চনা ক্ষেতের সার সহ কাঁচা বা মাটির উঠানে লেপন করে রোগ প্রতিরোধক হিসাবে ব্যবহার  করা হয়, জুতা থেকে শুরু করে বাদন যন্ত্র  তৈরীর কাজেও গরুর উপাদান ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ গাভী সমাজের এমন একটি উদাহরন বা প্রতিকীকরণ বা পূর্ণতার উপস্থাপন (অবশ্যই পুজনীয় নয় বা দেবতা গন্য নয়) যার দ্বারা একের ভিতর একাধিক জীবন ব্যবস্থা লুকায়িত সেই ব্যক্তির জন্য যিনি চিন্তা করেন এবংমহান আল্লাহ্ তায়ালার এই সরলিকরণকে মানেন।

মানুষের কল্যানে অর্থনৈতিক উন্নয়নে গাভীকে আল্লাহ তায়ালা যেমন একটি বিশেষ উপকারী প্রানী হিসাবে সৃষ্টি করেছেণ, ঠিক, তেমনীভাবে তিনি তাঁর আল-কোরআনের গাভীটি নামক সুরাতে নভমন্ডল, ভু-মন্ডল এবং এতুদ্বভয়ের মধ্যে যাকিছু আছে তার সব কিছুর সকল বিষয়ে আলোকপাত করেছেন যাতে মুসলমানেরা আল্লাহর গুরুত্ব, একত্ব এবং সর্বময়তা অনুধাবন করে সহজেই চিনে নিতে পারে পৃথিবীতে মানুষের করনীয় ও পালনীয় রীতি-নীতি, কাজকর্ম এবং পথ ও ‘পদ’ সমুহু।

সুরা আল- বাক্বারায় আল্লাহ তায়ালা তাঁর সকল সৃষ্টি জগতের সকল রহস্যময়তাকে উম্মোচন করেছেন ততটুকু যতটুকু হলে একজন মানুষ তার নিজস্ব পরিমন্ডলে পরিপূর্ণ হতে পারে সহজেই। এমন কোন বিধান বা পথ তিনি তাঁর পথ প্রদর্শক  হতে লুকাননি যা আল্লার বান্দাদের নিকট দূর্বোধ্য বা অষ্পষ্ট। ভাল মন্দের মধ্যে পার্থক্য সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ পূর্বক কখনো রহস্যময়তা দিয়ে, কখনো ব্যপক অর্থবোধক করে, কখনো সাংকেতিক ভাবে, কখনো একাধিককে এক পদের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন সহজ সরলভোবে যাতে মানুষজাতি বোঝে এবং এসবের ব্যবস্থাপকের প্রতি কৃতজ্ঞ হয় এবং কয়ামত দিবস আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করে। মানুষের এবং মুসলমানদের কল্যানে এক থেকে একাধিক তারও অধিক কোন বিধানকেই তিনি বাদ দেননি। ব্যক্তি, পরিবার, মহল্লা, গ্রাম, সমাজ, রাষ্ট্র কিভাবে পরিচালিত হবে, মুসলিম- অমুসলিমের সাথে পারস্পরিক সম্পর্ক এমনকি একজন মানুষের (নর-নারীর) সাথে পশু পাখিদের সম্পর্ক কেমন হবে তাও এই সুরায় বর্ণিত হয়েছে,  জাগতিক- মহাজাগতিক, ইহকাল- পরকাল, বেহেশত- জাহান্নাম, প্রথা-কুপ্রথা, জন্ম-মৃত্যু, পারস্পরিক সম্পর্ক, উত্তরাধিকার, নারী- পুরুষের সম্পর্ক, পিতা- মাতা-আত্মীয়-স্বজন এর প্রতি আচার-আচরণ ও কর্তব্য সহ মানুষ্য জীবনের সাথে সম্পর্কযুক্ত এবং সম্পর্কবিযুক্ত এমন কোন ক্ষদ্রাতি-ক্ষুদ্র বিষয় বাদ পরেনি যেসব আল্লাহ তায়ালা এই সুরায় তার বান্দাদের জন্য আলোকপাত করেননি। বরংচ মুসলিম- অমুসলিম এ সাথে সম্পর্ক সহ পুরো সৃষ্টিজগতের পরিচালনা পদ্ধতি আল্লাহ মেহেরবান অলোকপাত করেছেন। এই সুরার পরিধির মধ্যহতে বাদ যায়িনি কোনকিছুই। রাস্ট্রীয়, সামাজিক ও পারিবারিক আইন কানুন, নামাজ, রোজা,  যাকাত এমনকি হজ্বের সময় নির্ধারণ পূর্বক বর্ষ গননার পদ্ধিতিও  এই সুরায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এই সুরার মর্যাদা হলো, এটি এমন একটি সুরা যা কোরআনের অন্য সবকটি সুরার একত্রিত ঐর্শ্বয্য এবং মুমিনদের জন্য ইহকাল ও পরকালের আলো।  সুরা বাক্বারা হচেছ  পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থার ধারক এবং মানুষের কল্যানের ঔষধ স্বরুপ। এই সুরায় আল্লাহর সর্বশত্তিময়তাও বর্ণিত হয়েছে যাতে মানুষ নমাজ কায়েম করে আল্লার নিকট অবনত হয়।

দয়াময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

আরবী ৩। সুরা আলে ইমরান
বাংলা নাম- ইমরান/ইমরানের পরিবার
ইংরেজী নাম- The Family of Imran
আয়াত সংখ্যা- ২০০ রুকু- ২০
অবতীর্ন- মদীনায়

ইমরান/ইমরানের পরিবার- আল্লাহ্র গুনকীর্তন করে আল্লহ্র আয়াত সমুহে বিশ্বাসীদের পরিচয় প্রদান করা হয়েছে।  শেষ নবীর হাতে অবতীর্ণ কোরআনকে দুইটি আসনমানী কিতাব ইঞ্জিল ও তাওরাতের সত্যায়নকারী হিসাবে উল্লেখ করে সর্বোচ্চ স্বত্ত্বা মহান প্রতিপালক আল্লাহ্র পরিচয় দেয়া সহ কোরআনের আয়াত সমুহের শ্রেনীবিন্যস করে আয়াত সমুহু দ্বারা বিশ্বাসীদের প্রার্থনার পদ্ধতি বর্ণনা করাি হয়েছে।

সুরায় যে সব পরিবার ও তার পরিজনেরা কুফরী করে তাদের পরিনাম বর্ণিত হয়েছে। সাথে সাথে আল্লাহ্-র বিধান সমুহ নিয়ে বিদ্রুপকারী অবিশ্বাসীদের পরিচয় তুলে ধরে অবিশ্বাসী কাফের, কুফরীকারীদের সাথে কিভাবে আলাপচারিতা করতে হবে সে শিক্ষা নবীর মাধ্যমে সকল মুসলমানদের প্রদান কার হয়েছে। ইমরান সুরার মাধ্যমে “মানুষের জন্য পার্থিব জীবনের চেয়ে উত্তম জীবন ব্যবস্থা রয়েছে, আল্লাহ্র নিকট” এই মর্মে একাধীক আয়াত প্রেরণ করা হয়েছে নবীর নিকট যাতে তিনি পৌছে দিতে পারেন।

আল্লাহ্ কাফেরদের ভালবাসেন না এবং তিনি তাঁর কোন বান্দা সম্পর্কে বেখবর নন; এ’বিষয়ে নবীকে কোরআনের আয়াত মারফত সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করে মোতাবেক মানুষকে চলার আদেশ দিয়ে মুমিন ও কাফেরদের সাথে আল্লাহ কিরুপ ব্যবহার করবেন তা’ এতদ্ সুরায় বর্ণিত হয়েছে। 

সর্বময় বিরাজমান, সর্বশক্তিমান, আল্লাহ্ কর্তৃক নির্ধারিত ইমরান পরিবারের কাহিনী বর্ণনা মারফত মানুষের নিকট আল্লাহ্-র  প্রশংসা, ক্ষমতা এবং মাহত্ব ঘোষনা করা হয়েছে।  আল্লাহ্-র কোরআন ও তাঁর নবীকে বিশ্বাস করে, আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়, বেহিসাব রিজিকদাতা, বিচারদিবসের মালিক  এই সত্যকে মেনে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও নামাজ প্রতিষ্ঠা করার জন্য এই সুরার আয়ত সমুহ মুমিন বান্দার জন্য নির্দেশিত হয়েছে।

এই সুরার মর্যাদা হলো সুরায় ইসলাম ধর্মকে আল্লাহর প্রিয় ধর্ম হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ্-র অনুগ্রহপ্রাপ্ত এবং আল্লাহ্ প্রদত্ত শাস্তিপ্রাপ্ত বান্দাদের পরিচয় প্রদান করতঃ  মরিয়ম আ. এবং মরিয়ম তনয় ঈসা আ. এর জীবন কাহিনীও এখানে অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে যাতে মানুষ বোঝে এবং তদানুযায়ী নিজের জীবনকে সমৃদ্ধশালী করে।

দয়াময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

আরবী 4। সুরা আন- নিসা
বাংলা নাম- নারীজাতী
ইংরেজী নাম- The Women
আয়াত সংখ্যা- 176 রুকু- 24
অবতীর্ন- মদীনায়

নারীজাতী- আল্লাহকে ভয় করার তাগিদ দিয়ে এই সুরায় নারী ও ইয়াতিমদের সাথে মুমিন মুসলমানদের সম্পর্ক কিরুপ হবে বর্ণিত হয়েছে। বান্দাগন যাতে আল্লাহ্র রোষানলে না পরেন সে অনুযায়ী ইসলামী বিধান মেতাবেক নিারী- পরুষ, মাতা- পিতা, সন্তান, ইয়তিমদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক, লেন-দেন এমনকি সম্পদহীনদের মধ্যে সম্পদশালীদের সম্পদ বন্টনের নিয়মাবলীও বর্নিত হয়েছে।

উল্লেখিত হয়েছে ব্যাভিচারী নারী পুরুষের সামজিক শাস্তির বিধান এবং মন্দ নারী- পরুষদের তওবা আল্লাহ্-র নিকট গ্রহনযোগ্য নয়। অপরপক্ষে সৎ ও তওবাকারী নারী পুরুষদের প্রতি আল্লাহ্-র  অনুগ্রেহের ওহি জিব্রাইল আ. মারফত রসুলের নিকট বিবৃত করা হয়েছে। মুষলমান নর নারীর বিবাহের বিধান সহ তাদের হালাল- হারাম সম্পর্কের বিধান দেওয়া হয়েছে এখানে। ব্যবসায় সচ্ছতা, সততার তাগিদ দিয়ে নারী পুরুষের বিচ্ছেদের বিধান সহ আল্লাহর পছন্দ ও অপছন্দের বিষয়সমুহ উম্মোচন করা হয়েছে নারীজাতী সুরাতে।

অবাধ্য ইহুদীদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রদান করে, লানতকারী, কাফের, শয়তান ও শিরককারীদের কোন সাহায্যকারী থাকবেনা এবং পরকালে তাদের শাস্তি অবধারিত বলে সুরায় সুস্পষ্ট করা হয়েছে। আমানেতের খেয়ানত না করার নির্দেশ পূর্বক আল্লাহ্-র পয়গামের বাহক হিসাবে নবীকে শিক্ষা দিয়েছেন যাতে তিনি ইমানদার ও আল্লাহ্-র  বানীকে অস্বীকারকা্রী মুনাফেকদের চারিত্র ও কর্মসুহু সহজেই চিহ্নিত করতে পারেন এবং সতর্ক করতে পারেন। নবীর নিকট ইসলামের জন্য জেহাদকারী এবং পলায়নকারীদের পার্থক্যও স্পষ্ট করা হয়েছে এই সুরার মাধ্যমে ।

মানুষের মর্যাদার দিক বিবেচনায় নারীজাতী সুরার মাধ্যমে মুমিন নারী পুরুষ কিভাবে নিজেদের পাক পবিত্র রেখে নামাজে দন্ডায়মান হবে সে’ব্যপারে স্পষ্ট ওহি প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহ্র সবচেয়ে বড় অনুগ্রহ হচ্ছে তিনি আল্লাহ যিনি মানুষকে দূর্বল হিসাবে উল্লেখ করেছেন এবং বান্দাদের ক্ষমা করতে চান বিধায় নর-নারীর বন্ধনের বিধান নারীজাতী সুরার মাধ্যমে ওহি আকারে কোরআনে লিপিবদ্ধ করেন।

কারো কোন কথা বা মত থাকলে, যোগাযোগ মাধ্যম ঃ মেবাইল ঃ 01720080400, 01913091709, টেলিফোন ঃ 0161-59188, https://web.facebook.com/shakhawat.chhabi

About শাখাওয়াৎ ছবি 59 Articles
সভাপতি- উদীচী, নড়িয়া ‍উপজেলা, শরীয়তপুর সভাপতি- কীর্তিনাশা থিয়েটার, বাংলদেশ গ্রাম থিয়েটার, নড়িয়া শরীযতপুর সভাপতি- ভোর হলো,নড়িয়া শরীযতপুর পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাতা: আবহমান কম্পিউটার কেন্দ্র প্রধান সম্পাদক: নড়িয়া বার্তা, নড়িয়া শরীয়তপুর।