জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছে শরীয়তপুর জেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো

 

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ

সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে ভয়াবহ ভাইরাস হচ্ছে করোনা। যার সংক্রমণ দিনে দিনে বেড়েই চলছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি, বেসরকারি সহ সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেন সরকার। ২৪ এপ্রিল প্রশাসন কর্তৃক ঘোষণায় সাধারণ মানুষকে বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাহিরে ঘোরাঘুরি বা যেতে নিষেধ করা হয়। কিন্তু ঘরে বসে থাকতে পারেনি শরীয়তপুর জেলার কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার গন। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিবারের স্বজনদের সংশয়ের মুখে রেখে নিয়মিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা । জাজিরা উপজেলার কুন্ডের ইউনিয়নের একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায় সিএইচসিপি মোঃ মনির হোসেন ভাঙ্গা পায়ে প্লাস্টার নিয়ে রোগীদের সেবা ও চিকিৎসা করে যাচ্ছেন, রোগীরাও সেবায় সন্তোস প্রকাশ করেছেন, মনির হোসেন বলেন ডাঃ মাহমুদুল হাসান স্যারের নেত্রীত্বে আমরা নিযোমিত সেবা করে যাচ্ছি।

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জাজিরা ইউনিয়নে জব্বর আকন কান্দি কমিউনিটি ক্লিনিকে বর্তমানে কর্মরত আছেন বাংলাদেশ কমিউনিটি হোলথ কেয়ার প্রোভাইডার এসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও শরীয়তপুর জেলার সভাপতি মোঃ শফিকুল ইসলাম । তিনি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নিয়মিত সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রেখেছেন,

কথা হয় স্বাস্থ্যকর্মী মোঃ শফিকুল ইসলাম এর সাথে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের সময় বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাংলার দামাল ছেলেরা যেভাবে ঝাপিয়ে পড়ে ছিল মুক্তিযোদ্ধে ঠিক ২০২০ সালে করোনা ভাইরাসের দুর্যোগে জাতির জনকের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা কামাল হোসেন সরকার ও শহিদুল ইসলাম এর নেতৃত্বে সারা দেশে প্রায় ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক সকাল ৮ হতে বেলা ১২ টা পর্যন্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জ্বর,ঠান্ডা, কাশি সহ যত রকম সমস্যা আছে আমরা প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা ও করোনা প্রতিরোধে পরমর্শ দিয়ে যাচ্ছি। তারই ধারাবাহিকতায় শরীয়তপুর ১৩৪ টি কমিউনিটি ক্লিনিক সিভিল সার্জন ডাঃ এস এম আবদুল্লাহ আল মুরাদ স্যারের নির্দেশে প্রতিদিন খোলারেখে
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিবারের কথা চিন্তা না করে মানবতার স্বার্থে রোগীর এই সেবা করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে সারা দেশে আমার সহকর্মী ২০ জন করোনা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। মুন্সিগঞ্জের আমার সহযোদ্ধা আশরাফুল ইসলাম ভাই করোনা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরন করেন।

তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা পক্ষ থেকে যে প্রনোদনা ও সরকারি সহায়তার কথা ঘোষণা হয়েছে তাযেন দ্রুত বাস্তবায়ন করা হয় তার জোর আবেদন করেন। এ ছারা ও দুই বছর ধরে আমাদের ০৮ জন সহকর্মী সাময়ীক ভাবে বহিস্কার হয়ে আছে তাদের সাময়ীক বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহারের দাবি করে তিনি বলেন
আমারা এই করোনা দুর্যোগের সময় মাননীয় প্রধান মন্ত্রী নির্দেশে জনগনের পাশে থেকে স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ দিয়ে যেতে চাই।